সুইডেনে এক ইরাকি শরণার্থীকে হত্যা করা হয়েছে আদালতের রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে। গত বছর ইসলামবিরোধী বিক্ষোভে বারবার কোরআন পোড়ানোর অভিযোগে তার বিচার চলছিল।
বৃহস্পতিবার পুলিশ ঘোষণা করেছে যে ৩৮ বছর বয়সী সালওয়ান মোমিকার হত্যার ঘটনায় তারা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার স্টকহোমের কাছে স্যোদারতেলিয়ে শহরের একটি বাড়িতে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই হত্যাকাণ্ডে গভীরভাবে জড়িত, কারণ এটি একটি বিদেশি শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার ঝুঁকি রাখে।”
উপ-প্রধানমন্ত্রী এব্বা বুশ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি আমাদের মুক্ত গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। আমাদের সমাজের সর্বশক্তি দিয়ে এর মোকাবিলা করা উচিত।”
স্টকহোম জেলা আদালত বৃহস্পতিবার মোমিকা এবং তার সহ-অভিযুক্ত সালওয়ান নাজেমের বিরুদ্ধে “একটি জাতিগত বা জাতীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উসকানি” দেওয়ার অভিযোগে রায় দেওয়ার কথা ছিল। তবে মোমিকার মৃত্যুর কারণে রায় ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
গত আগস্টে দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, এই দুই ব্যক্তি কোরআন অবমাননা করেছিলেন, যার মধ্যে সেটি পোড়ানো এবং মুসলমানদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। একবার তারা স্টকহোমের একটি মসজিদের বাইরে এ ধরনের কাজ করেছিলেন।
সরকারি কৌঁসুলি রাসমুস ওম্যান নিশ্চিত করেছেন যে মোমিকার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা এখনো তদন্তের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি… অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।”
কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, গুলির ঘটনাটি সম্ভবত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল।
বুধবার রাতে পুলিশ একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে গুলির ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে একজন ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পায়।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দেখা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ একটি ফোন তুলে নিয়ে একটি লাইভস্ট্রিম বন্ধ করে দিচ্ছে, যা মনে করা হচ্ছে মোমিকার টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে সম্প্রচার করা হচ্ছিল।
ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
২০২৩ সালে সুইডেন কোরআন পোড়ানোর ঘটনার পর দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী সতর্কতা স্তর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করে। মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক ক্ষোভের পর সুইডিশ নাগরিকদের দেশ-বিদেশে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
জুলাই ২০২৩-এ ইরাকি বিক্ষোভকারীরা সুইডেনের বাগদাদ দূতাবাসে দু’বার হামলা চালায় এবং দ্বিতীয়বার সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
২০১৮ সাল থেকে সুইডেনে বসবাসকারী মোমিকার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে দেশটি থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি তার বসবাসের আবেদনে ভুল তথ্য দিয়েছেন।
তবে সুইডেনের অভিবাসন সংস্থা পরবর্তীতে তাকে অস্থায়ী আবাসনের অনুমতি দেয়, কারণ সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল যে তাকে ইরাকে ফেরত পাঠানো হলে নির্যাতন এবং অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
২০২৪ সালের মার্চে মোমিকা সুইডেন ছেড়ে নরওয়েতে আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং বলেন, “সুইডেনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা—একটি বড় মিথ্যা।”
কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর নরওয়ে তাকে সুইডেনে ফেরত পাঠায়।

0 মন্তব্যসমূহ