শিয়া এবং সুন্নি ইসলাম ধর্মের দুটি প্রধান শাখা। তাদের মূল পার্থক্য ইতিহাস, বিশ্বাস এবং ধর্মীয় অনুশীলনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
১. ঐতিহাসিক পার্থক্য
শিয়া ও সুন্নির প্রধান মতপার্থক্য হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওফাতের পর নেতৃত্ব নিয়ে।
- সুন্নি: বিশ্বাস করে যে নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর পরে খলিফা হওয়ার অধিকার ছিল তাঁর সাহাবাদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তির, তাই তারা আবু বকর (রা.)-কে প্রথম খলিফা হিসেবে গ্রহণ করে।
- শিয়া: বিশ্বাস করে যে নবীর পরে নেতৃত্ব পাওয়ার অধিকার শুধুমাত্র তাঁর পরিবার, বিশেষ করে হযরত আলী (রা.) এবং তাঁর বংশধরদের ছিল। তাই তারা হযরত আলী (রা.)-কে প্রথম বৈধ ইমাম বলে মানে।
২. ধর্মীয় নেতৃত্ব
- সুন্নি: তারা খলিফা ও ধর্মীয় পণ্ডিতদের অনুসরণ করে, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট পারিবারিক বংশধরকে অপরিহার্য মনে করে না।
- শিয়া: তারা ১২ ইমামের মতবাদ অনুসরণ করে, যেখানে তারা বিশ্বাস করে যে ইমামগণ বিশেষ জ্ঞান ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত এবং তারা নবীর বংশধর।
৩. ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান
- সুন্নি: সাধারণত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং রমজানের রোজা, হজ, যাকাত ইত্যাদির ব্যাপারে কুরআন ও হাদিস অনুসারে চলে।
- শিয়া: তারা কিছু ভিন্ন রীতিনীতি পালন করে, যেমন নামাজে হাত খোলা রাখা, আশুরা দিবসে হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত স্মরণে শোক পালন করা ইত্যাদি।
৪. ইসলামি আইন ও বিশ্বাস
- সুন্নি: চারটি মাজহাব (হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি, হাম্বলি) অনুসারে শরিয়াহ মেনে চলে।
- শিয়া: মূলত জাফরী মাজহাব অনুসরণ করে এবং ইমামদের সিদ্ধান্তকে শরিয়াহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে।
৫. আশুরার দিন পালন
- সুন্নি: আশুরার দিন সাধারণত নফল রোজা রাখে এবং এটিকে পবিত্র দিন হিসেবে দেখে।
- শিয়া: আশুরার দিন বিশেষভাবে হযরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতকে স্মরণ করে শোক পালন করে এবং অনেক সময় তাজিয়া ও মাতম করে।
সংক্ষেপে:
শিয়া এবং সুন্নির মধ্যে মূল পার্থক্য নেতৃত্ব, বিশ্বাস, ধর্মীয় আচার ও আইন নিয়ে। তবে উভয় দলই কুরআন এবং নবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব হিসেবে মেনে চলে।
আপনি যদি নির্দিষ্ট কোনো দিক নিয়ে জানতে চান, তাহলে বলতে পারেন!
0 মন্তব্যসমূহ