পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারত একযোগে স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনী ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে ২৬ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লে. জে. আহমেদ শরীফ চৌধুরী এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম ডন।
জবাবে পাকিস্তান ৫টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান, একটি ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে এবং একটি ব্রিগেড সদর দপ্তর ধ্বংস করেছে বলে জিও নিউজ জানিয়েছে। ভারত দাবি করেছে, তারা মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটে পাকিস্তান ও পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিঁন্দুর’ নামে অভিযানে ৯টি স্থাপনায় আঘাত হানে। অভিযানটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।
এই হামলার তীব্র সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘লজ্জাজনক’ বলেন এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পাকিস্তান জানিয়েছে, কোটলি, ভাওয়ালপুর, মুরিদকে, বাগ ও মুজাফফরবাদের কয়েকটি স্থানে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়, যার মধ্যে আহমেদ ইস্ট এলাকার সুবহান্নাল্লাহ মসজিদে এবং কয়েকটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু এলাকায় শিশু ও পরিবার সদস্যরা আটকা পড়ে, যাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। তবে মুজাফফরাবাদে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে এবং বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ওয়াহিদ জানান, বিস্ফোরণের সময় এলাকা কেঁপে ওঠে, শিশুরা কাঁদতে থাকে ও মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দৌড়াতে শুরু করে।
তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একটি সাধারণ মসজিদ কীভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হলো, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।




0 মন্তব্যসমূহ