গাজায় ২০ দিনের এক নবজাতক তীব্র ঠান্ডায় মারা গেছে, যা ছয় দিনের মধ্যে হাইপোথারমিয়ার কারণে মৃত্যুর পঞ্চম ঘটনা। ইসরাইলি অবরোধে থাকা ফিলিস্তিনি এই এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রবিবার মারা যাওয়া জুমা আল-বত্রান তার যমজ ভাই আলি এখনও আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালে আইসিইউতে রয়েছে। জুমার বাবা ইয়াহিয়া আল-বত্রান বলেন, তিনি রবিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার ছেলের মাথা বরফের মতো ঠান্ডা।
তিনি জানান, যমজ শিশু দুটি এক মাস আগে অপরিণত অবস্থায় জন্ম নিয়েছিল এবং তারা মাত্র একদিন ডেইর আল-বালাহর হাসপাতালের নার্সারিতে ছিল। অন্যান্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মতো এই হাসপাতালও ইসরাইলি বোমা হামলায় আংশিক কার্যকর এবং রোগীতে পরিপূর্ণ। ডাক্তাররা মা’কে শিশুদের গরম রাখার পরামর্শ দিলেও এটি সম্ভব হচ্ছিল না কারণ তারা একটি তাঁবুতে বাস করেন, যেখানে রাতের তাপমাত্রা নিয়মিতভাবে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়।
"আমরা আটজন, কিন্তু আমাদের মাত্র চারটি কম্বল আছে," বলেন আল-বত্রান, যিনি তার মৃত ছেলের বিবর্ণ দেহ কোলে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, "তাঁবুর ঢাকনা ফুঁড়ে শিশির পড়ে যায়। ঠান্ডায় তার গায়ের রং দেখুন। দেখুন সে কতটা জমে গেছে।" আল-বত্রানের পরিবার মধ্য গাজার ডেইর আল-বালাহ শহরে একটি জরাজীর্ণ তাঁবুর আশ্রয়ে রয়েছেন।
"এখানে বিদ্যুৎ নেই। পানি ঠান্ডা, গ্যাস নেই, গরম করার ব্যবস্থা নেই, এমনকি খাবারও নেই। আমার সন্তানরা আমার চোখের সামনেই মারা যাচ্ছে, কিন্তু কেউ পরোয়া করে না। জুমা মারা গেছে, এবং আমি ভয় পাচ্ছি তার ভাই আলিও হয়তো মারা যাবে।"
কিছু শিশু খালি পায়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ইয়াহিয়ার শোক দেখছিল। ইমামের পায়ের কাছেই শায়িত ছিল কাপড়ে মোড়ানো নবজাতকটি, যা ইমামের জুতোর চেয়েও ছোট। নামাজের পর ইমাম তার লম্বা কোট খুলে পিতার চারপাশে জড়িয়ে দেন। আল-জাজিরার হিন্দ খৌদারি জানিয়েছেন, আল-বত্রান পরিবারের আশ্রয়স্থল সমুদ্রের খুব কাছাকাছি এবং খুবই বাতাসপ্রবণ।
এখানে কোনও তাঁবু বা ত্রিপল নেই, এবং জুমার বাবা তার সন্তানদের মৌলিক চাহিদাগুলি দিতে পারেননি," তিনি বলেন। "শুধু বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের কারণে নয়, পুষ্টিহীনতা ও হাইপোথারমিয়ার কারণেও ফিলিস্তিনি শিশু ও নবজাতকেরা মারা যাচ্ছে।"
ইসরাইলি বাহিনী গাজার প্রায় ২৩ লাখ বাসিন্দাকে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে, যাদের অনেকে দক্ষিণ গাজার বৃষ্টিভেজা, বাতাসপ্রবণ উপকূলে অনুপযুক্ত তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে। গত এক সপ্তাহে মারা যাওয়া পাঁচ ফিলিস্তিনি শিশুর মধ্যে তিনজন আল-মাওয়াসির "মানবিক অঞ্চলে" বাস করত।
গাজার ফিল্ড হাসপাতালের প্রধান মারওয়ান আল-হামাস জানিয়েছেন, জুমার মৃত্যু সাম্প্রতিক দিনে তীব্র ঠান্ডায় মারা যাওয়া শিশুদের সংখ্যা পাঁচে নিয়ে গেছে।
খান ইউনিসের আল-তাহরির মাতৃসদন হাসপাতালের ডাক্তার আহমেদ আলফারা জানিয়েছেন, তিনি প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়টি শিশুর হাইপোথারমিয়ার ঘটনা দেখেন। "আমি সেই তাঁবুগুলো পরিদর্শন করেছি যেখানে এই শিশুরা বাস করে এবং আমি অবস্থা দেখেছি। এটি অত্যন্ত শোচনীয়।" তিনি আল-জাজিরাকে বলেন।
গত বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজার বাসিন্দারা বিদ্যুৎ, খাবার, পানীয় জলের তীব্র সংকট ও চিকিৎসা পরিষেবার অভাবে ভুগছেন। বাড়িঘর থেকে বারবার উচ্ছেদের ফলে তারা চরম দুর্দশায় রয়েছে।
গাজায় ইসরাইলি গণহত্যায় অন্তত ৪৫,৪৮৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,০৮,০৯০ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরাইলে অন্তত ১,১৩৯ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি লোক বন্দি হয়েছিল।
Thanks to Al Jazeera



0 মন্তব্যসমূহ