মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ, দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা, এই মুহূর্তে খবর দে, শেখ হাসিনার কবর দে, আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’-এমন নানা স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এমন স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্র-জনতা।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থী ও জনতা আসতে শুরু করে। এছাড়া ঢাকার.বিভিন্নশিক্ষা.প্রতিষ্ঠানের.শিক্ষার্থীদেরকেও ব্যানার নিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দিতে দেখা গেছে। এ সময় শহীদ পরিবার ও আহতদের মঞ্চে ডেকে নেয়া হয়।
এদিকে বেলা ১১টার দিকে শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, বেদিতে বিছানো হয়েছে লাল গালিচা। মঞ্চ গোছানোর কাজ চলছে। কয়েকাটি জায়গায় এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। আশেপাশে মানুষজন ঘুরাফেরা করছেন। কিছুক্ষণ পর পর মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে জড়ো হচ্ছে ছাত্র-জনতা। তাদের হাতে বাংলাদেশের পতাকা, মাথায় বেঁধে রেখেছেন পতাকা সম্বলিত কাপড়।
রাজশাহী, রংপুর, মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ও ছাত্র-জনতা।
শহীদ মিনারে আগত ছাত্র-জনতা বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার জন্য হাসিনা দেশে আসবে। সুবিধা নেয়ার জন্য এক শ্রেণির মানুষ ওঁত পেতে রয়েছে। তাদেরকে শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। সংস্কারের আগে কোনো নির্বাচন নয়। আগে সংস্কার করে হাসিনার দোসরদের সব জায়গা থেকে বিতাড়িত করতে হবে। এরপর নির্বাচনের কথা আসবে। ছাত্র-জনতা সবসময় ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। সবকিছু মোকাবেলার জন্য আমরা প্রস্তত রয়েছি বলেও জানান তারা।
এর আগে শনিবার ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঘোষণাপত্র পাঠ করার কথা ছিল। ঘোষণাপত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট বা জনআকাঙ্ক্ষাকে দালিলিক রূপ দেয়া হবে বলে জানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শহীদ মিনারে সব দলমতের মানুষকে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৫৮ জন সমন্বয়ক-সহসমন্বয়ক শপথ নেবেন। এ ছাড়া সেখানে ‘সেকেন্ড রিপাবলিকের’ দাবি আসবে।’
তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই ঘোষণাকে প্রাইভেট প্রোপার্টি আখ্যা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায় এর সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু পরদিনই আবার ঠিক রাত ৯টার কিছু পরে সরকার ঘোষণা দেয়, অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র সরকার দেবে, তবে কিছুদিন পরে। সরকারের এমন ঘোষণার পর সোমবার রাতেই জরুরি মিটিংয়ে বসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতারা।
রাজধানীর বাংলামোটরে নিজেদের কার্যালয়ে রাত পৌনে ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ (ঐক্যের জন্য যাত্রা) কর্মসূচি পালন করা হবে।

0 মন্তব্যসমূহ