অস্কারজয়ী পরিচালক জেমস ক্যামেরন ঘোষণা করেছেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময়কার রাজনৈতিক পরিবেশকে দায়ী করেছেন। নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম Stuff-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যামেরন আমেরিকার বর্তমান অবস্থা নিয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নতুন দেশে স্থায়ী হওয়ার স্বস্তির কথা জানান। টাইটানিক ও অ্যাভাটার সিনেমার জন্য পরিচিত এই পরিচালক ২০১২ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের সাউথ ওয়াইরারাপায় ১,০০০ হেক্টরের একটি দুগ্ধ খামারের মালিক এবং অনেক দিন ধরেই সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা করছিলেন।
ক্যামেরন ট্রাম্পের নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করে এটিকে "ভয়ংকর" এবং "নৈতিকতার পরিপন্থী" বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র তার ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ হারাচ্ছে এবং ক্রমশ "একটি শূন্য ধারণায়" পরিণত হচ্ছে। পাশাপাশি, তিনি নিউজিল্যান্ডের সংবাদ পরিবেশনার ধরনও প্রশংসা করেন, যা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্পকেন্দ্রিক সংবাদচক্র থেকে মুক্তি দেয়। তিনি তার পরিবারসহ সাউথ ওয়াইরারাপার খামারেই স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা করছেন এবং ভবিষ্যতের সব চলচ্চিত্র নিউজিল্যান্ডে প্রযোজনা করবেন, যেখানে স্থানীয় প্রতিভাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে উপহাস করলেও অনেকে একমত প্রকাশ করেছেন, এমনকি মন্তব্য করেছেন, "আমি তোমার অবস্থান বুঝতে পারছি, জেমস।" ক্যামেরনের নিউজিল্যান্ড নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা তিনি "গুরুত্বপূর্ণ" বলে মনে করেন এবং অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো দেশকে নিজের বাড়ি হিসেবে স্বীকার করার আগে সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা জরুরি। পাশাপাশি, তিনি কানাডিয়ান ও নিউজিল্যান্ডবাসীদের মূল্যবোধে মিল খুঁজে পান।
ক্যামেরনের নিউজিল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। অ্যাভাটার সিনেমার জন্য তিনি ওয়েলিংটন-ভিত্তিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস স্টুডিও Weta Digital-এর সঙ্গে কাজ করেছেন, যা একটি অস্কারও জিতেছে। তিনি নিউজিল্যান্ডের তরুণ নির্মাতাদের সহযোগিতা করতে চান এবং ভবিষ্যতের সব চলচ্চিত্র ওয়েলিংটনেই নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে তিনি স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে ভালোবাসেন।
তবে ক্যামেরনের এই সিদ্ধান্ত শুধু ট্রাম্প প্রশাসন থেকে দূরে থাকার জন্য নয়, বরং এটি তার নতুন বাড়ি খুঁজে পাওয়ার এবং নিউজিল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পে অবদান রাখার একটি সুযোগও। তিনি বিশ্বাস করেন, নিউজিল্যান্ড তার জন্য এমন একটি জায়গা যেখানে তিনি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন এবং দেশটির প্রতিভা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে পারেন। নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে, এবং ক্যামেরন তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত, যেখানে তার চলচ্চিত্র নির্মাণের কেন্দ্রস্থল হবে নিউজিল্যান্ড এবং তিনি স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশ হতে পারবেন।

0 মন্তব্যসমূহ