এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে, ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের আগে, রাশিয়া ইউরোপের পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করত।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর রাশিয়ার প্রাচীনতম গ্যাস সরবরাহ পথ বন্ধ হওয়ার ফলে ইউরোপে রাশিয়ার অংশীদারিত্ব কমে ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
তুরস্ক হয়ে চলমান আরেকটি গ্যাস পাইপলাইন এখনো হাঙ্গেরির মতো কয়েকটি দেশে গ্যাস সরবরাহ করছে।
তাহলে, শীতকালীন ঋতুর উচ্চতম পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার ফলে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে?
রাশিয়ার জ্বালানি জায়ান্ট গ্যাজপ্রম জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা (০৫:০০ GMT)-এ ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফটোগাজের সঙ্গে চুক্তি নবায়নে অস্বীকৃতির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে।
বুধবার, ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কো এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা রাশিয়ার গ্যাস ট্রানজিট বন্ধ করেছি। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। রাশিয়া তার বাজার হারাচ্ছে, তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
ইউরোপ ইতিমধ্যেই রাশিয়ার গ্যাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
সর্বশেষ চুক্তিটি ২০২০ সালে প্রথম স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার আওতায় ইউক্রেন পরিবহন ফি পেত। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ চলাকালীন এই চুক্তি নবায়ন করবেন না বলে পূর্বেই সতর্ক করেছিলেন।
ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ ইউক্রেনে আক্রমণের পর অনেক ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমাতে শুরু করে।
সর্বোচ্চ পর্যায়ে মস্কোর অংশীদারিত্ব ছিল ইউরোপীয় গ্যাস আমদানির ৩৫ শতাংশ, কিন্তু তা বর্তমানে প্রায় ৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
ডিসেম্বর ১ তারিখ পর্যন্ত ইউক্রেন হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১৪ বিলিয়ন ঘনমিটার (বিসিএম)-এর কম গ্যাস পেয়েছে, যেখানে ২০২০ সালে চুক্তি শুরুর সময় তা ছিল বছরে ৬৫ বিসিএম।

0 মন্তব্যসমূহ